স্বামী বিবেকানন্দ ও তাঁর গুরুভ্রাতারা আনুষ্ঠানিকরুপে সন্ন্যাস কবে লইলেন এবং কিভাবে?

স্বামী বিবেকানন্দ ও তাঁর গুরুভ্রাতারা আনুষ্ঠানিকরুপে সন্ন্যাস কবে লইলেন এবং কিভাবে?

স্বামী বিবেকানন্দ ও তাঁর গুরুভ্রাতারা আনুষ্ঠানিকরুপে সন্ন্যাস কবে লইলেন এবং কিভাবে?

১৮৮৬ সালেই শেষদিকে বড়দিনের আগে নরেন্দ্রনাথ ও তাঁর সাত জন গুরুভ্রাতা যান হুগলী জেলার আঁটপুরে আর এক গুরুভ্রাতা বাবুরাম মহারাজের বাড়ি। সেখানে তাঁরা এক সঙ্গে ২৪শে ডিসেম্বর ১৮৮৬ মধ্যরাত্রে স্থানীয় দুর্গামন্ডপের সম্মুখে বাঁ দিকের কোণে প্রজ্জ্বলিত ধুনির সম্মুখে সমবেতভাবে সন্ন্যাস গ্রহণের চরম সংকল্প গ্রহণ করেন।

নরেন অর্থাৎ স্বামী বিবেকানন্দ ছাড়াও অন্য আটজনের নাম -

১। বাবুরাম ঘোষ (স্বামী প্রেমানন্দ)।

২। শরৎচন্দ্র চক্রবর্তী (স্বামী সারদানন্দ)।

৩। শশিভৃষণ চক্রবর্তী (স্বামী রামকৃষ্ণানন্দ)।

৪| তারকনাথ ঘোষল (স্বামী শিবানন্দ)।

৫। কালীপ্রসাদ চন্দ্র (স্বামী অভেদানন্দ)।

৬। নিত্যরঞ্জন ঘোষ (স্বামী নিরঞ্জনানন্দ)।

৭। গঙ্গাধর গঙ্গোপাধ্যায় (স্বামী অখন্ডানন্দ)।

৮। সারদাচরণ মিত্র (স্বামী ত্রিগুণাতীতানন্দ)।

এই স্থানটির নাম - ধুনি মন্ডপ এই পবিত্রদিনটির স্মরণে প্রতিবংসর ২৪শে ডিসেম্বর তারিখটি বর্তমানে 'পৃতাগ্নি দিবস' হিসেবে পালিত হয়।

মনে প্রাণে সন্ন্যাসী হলেও তখনও তাঁরা আনুষ্ঠানিক ভাবে সন্ন্যাসী হন নি।

পুজ্যপাদ স্বামী অভেদানন্দের “আমার জীবনকথা” হইতে জানা যায় (১৪০ পৃঃ), ‘গয়ার নিকটবত্তী“বরাবর' পাহাড়ে পাদদেশে বাসকারী জনৈক পরমহংসের নিকট হইতে সন্ন্যাসের মন্ত্রাদি তিনি লিখিয়া আনেন’।১৮৮৭-জানুয়ারী মাসের তৃতীয় সপ্তাহে (১২৯৩ বঙ্গাব্দে মাঘ মাসের প্রথম দিকে) বরাহনগর মঠে ঠাকুর ঘরে শ্রীশ্রী ঠাকুরের পবিত্র পাদুকার সমুখে উপবেশন করে বিরজা হোমের মাধ্যমে ঐ মন্ত্রোচ্চারণ করে সকলে সন্ন্যাস গ্রহন করেন।নরেন্দ্র ব্যতীত অপর সকলে এ দিনই তাহাদের অধুনাপ্রসিদ্ধ সন্ন্যাস-নামগুলি গ্রহণ করেন; কিন্তু নরেন্দ্রনাথের নাম হয় স্বামী বিবিদিষানন্দ। 

১৮৯০ খ্রীস্টাব্দের ৪ জানুয়ারি মাসে স্বামী শিবানন্দের একটি পত্র হতে তাঁদের নতুন নাম সম্বন্ধে জানা যায়। 

নিরঞ্জন- নিরঞ্জনানন্দ স্বামী 

হরিবাবু- তুরীয়ানন্দ স্বামী

যোগেন- যোগানন্দ স্বামী 

তুলসী- নির্মলানন্দ স্বামী

বাবুরাম- প্রেমানন্দ স্বামী 

দক্ষ- জ্ঞানানন্দ স্বামী

লাটু-অদ্ভুতানন্দ স্বামী 

কালী- অভেদানন্দ স্বামী

শশী- রামকৃষ্ণানন্দ স্বামী 

গোপাল দাদা - অদ্বৈতানন্দ স্বামী

হরিপ্রসন্ন সন্ন্যাস হয়েছিল বেলুড়মঠে ১৮৯৯-এর ৯ই মে, নাম হয়েছিল স্বামী বিজ্ঞানানন্দ। বেলুড় মঠের ডিজাইন তিনিই করেন। 

গ্রন্থসূত্রঃ-১. যুগনায়ক বিবেকানন্দ,প্রথম খণ্ড,স্বামী গম্ভীরানন্দ

            ২. পরিব্রাজক স্বামী বিবেকানন্দ, জয়ন্ত চক্রবর্তী


Post a Comment

0 Comments